শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কাশফুল

মোঃ রাকিব হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১১৬ বার পঠিত:

গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির অপরূপ শোভা ও সৌন্দর্যের অধিকারী কাশবন এখন আর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কাশফুল। যুগ যুগ পেড়িয়ে গেলেও গ্রাম-বাংলার নদ-নদীর ধার, ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গল, পুকুর, খাল-বিল ও ফাঁকা জায়গায় পথচারীদের দৃষ্টি কাড়তে কাশফুলের হালকা বাতাসে জেন দোলা দেয় সবার হৃদয়কে।রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেত কাশফুলের সৌন্দর্যে। মনটা বেশ খুশিতে থাকত। খোলা আকাশে উড়ে যেত নানা প্রজাতির পাখি।

বহুযুগ থেকে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় অহরহ কাশফুল ফুটলেও এখন আর চোখে পড়ে না চিরচেনা কাশফুলের এমন দৃশ্য। ফলে অনেকে কাশফুলকে ভুলতে বসেছে। তবে যশোর জেলার সদর উপজেলা, কোতয়ালী, অভয়নগর , মণিরামপুর, কেশবপুর এসব এলাকায় কাশফুল ফুটলেও এখন তেমন আর চোখে পড়ে না। যশোর সদর থেকে আসার পথে কোতয়ালী থানার কুয়াদা বাজারের পাশে কাশফুলের দৃশ্য চোখে পড়েছে। সে সময়ে একটি ইটের ভাটার মাঠে কাশফুল ফুটতে দেখে মনটা নাড়া দেয়। তাৎক্ষণিক ক্যামেরাবন্দি করা হয় কাশফুলের এমন দৃশ্যকে।

অন্যদিকে এবছর বিভিন্ন এলাকায় কাশফুল ফুটেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে রাস্তায় চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই রোধে রাস্তার দু’পার্শ্বে কাশফুল কেটে পরিষ্কার করা রয়েছে এমনটা জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

তারা আরো জানান, কাশফুলসহ রাস্তার দু’পার্শ্বে জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার থাকলে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে। এছাড়াও গ্রাম-বাংলার কাশফুল গাছ শুকিয়ে ঝাড়ু, ঘরের বেড়া ও ছাউনি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

অল্পসংখ্যক কাশফুল চোখে পড়লেও চাহিদা রয়েছে কয়েকগুণ। এ গাছটির এতগুণ থাকার পরেও গাছ বা বাগান করাসহ সংরক্ষণ ও রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেই।

হারেজ আলী নামে এক প্রবীন লোক জানান, একসময় প্রতিদিন কাশফুল বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যেত। পাখি ও ফুল দেখে মনটা ভালো থাকে। তবে এবছরে জায়গা না থাকায় কাশফুলের বাগান নেই।

দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি, নদ-নদী ভরাট, পতিত স্থান ও উঁচু জমি হ্রাস পাওয়ায় কাশফুল কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃতির অপরূপ শোভা দানকারী ও সৌন্দর্যের প্রতীক কাশবন (ফুল) এখন বিলুপ্তির পথে।

এলাকার সংবাদকর্মী এম, ওয়াজেদ আলী বলেন, কাশফুল গাছ সংরক্ষণে কৃষকদের মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এমনকি কাশফুল বা বাগান ব্যক্তি, সংগঠন, সরকারি দফতরের বনবিভাগ ও বেসরকারি পর্যায়ে সংরক্ষণ করতে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ দেখতে:
dailybhorerbangla website logo
© All rights reserved © 2020 Dailybhorerbanglanews.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com