শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

পটিয়া মাদ্রাসায় “মহানবী (সাঃ) এর পবিত্র জীবনি শীর্ষক মুহাযারা অনুষ্ঠিত

এম.আফিফুর রহমান কাওছার
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৭৬ বার পঠিত:

১২-ই রবিউল আউয়াল রোজ বুধবার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া’র দারুল হাদীস মিলনায়তনে অনুষ্টিত “মহানবী (সাঃ) এর পবিত্র জীবনি শীর্ষক মুহাযারা” অনুষ্টিত হয় ঐসময় জামিয়া প্রধান, উস্তাযে মুহতারাম হাকিমুল ইসলাম শায়খুল হাদীস আল্লামা শাহ্ মুফতি আব্দুল হালিম বুখারি সাহেব হুজুর (মাঃজিঃ) প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন, বক্তব্যের শেষের দিকে ,

নবীজি (সাঃ) কে নিষ্পাপ অস্বীকারকারীদের লক্ষ্যে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেন৷

তিনি বলেন, যারা হুজুর (সাঃ) কে নিষ্পাপ স্বীকার করেনা তাদের দলীল হলো সুরা নাসরের ৩য় আয়াতের অংশ واستغفره অর্থাৎ হে নবী! আপনি ক্ষমা চান৷ তাদের দাবী হলো, নবী করিম (সাঃ) যদি নিষ্পাপ হতো তাহলে তাকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হয়েছে?

তার উত্তরে হুজুর ৩টি যৌক্তিক জবাব দিয়েছেন…
★জনৈক ব্যাক্তির প্রশ্নের উত্তরে আপনি পরের অংশতে কি আছে সেটাও বলুন! সেখানে আছে انه كان توابا অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা অধিক তাওবাহকারী৷ তো! আপনার দাবী মতে আল্লাহ তাআলাও নিষ্পাপ নয়, তারও গুণাহ আছে৷ যদি নিষ্পাপ হতো তাহলে তাওবা কেন করে?
সে বলল, এখানে توابا এর অন্য অর্থ উদ্দেশ্য৷ হুজুর বলল, তাহলে এখানে واستغفره এরও অন্য অর্থ উদ্দেশ্য৷

واستغفره——-
★ এর মূলধাতু হলো غفر তার অর্থ হলো ঢাকনা৷ যুদ্ধারা মাথায় আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লোহার টুপি পরিধান করে, তাকে আরবীতে مغفر বলা হয়৷ তাহলে তখন তার অর্থ হবে, হে আল্লাহ! আমাকে ঢাকনা দাও৷
আমাদের দেশে যে পাত্রে ভেজা সুপারি রাখা হয় সে পাত্রেও ঢাকনা দেয়া হয়; আর যে পাত্রে বিরানী রাখা হয় সে পাত্রেও ঢাকনা দেয়া হয়৷ কিন্তু উভয়টার উদ্দেশ্য ভিন্ন৷ সুপারির পাত্রে ঢাকনা দেয়ার কারণ হল, ভেজা সুপারির গন্ধ যেন বাহিরে না যায়৷ আর বিরানীর পাত্রে ঢাকনা দেয়ার কারণ হল, বাহিরের কোন ময়লা যেন ভেতরে না পড়ে৷
আমাদের কলব হলো ভেজা সুপারির পাত্রের মত গন্ধ, আমরা তাওবা করি; আল্লাহ তাআলা আমাদের গন্ধযুক্ত কলবে ঢাকনা দিয়ে যেন ভেতরের গন্ধ বাইরে না নেয়৷ আর মহানবী (সাঃ) এর কলব হল বিরানীর পাত্রের মত খুশব, তিনি তাওবা করার কারণ হলো আল্লাহ যেন তার কলবে ঢাকনা দিয়ে বাইরের ময়লা থেকে রক্ষা করে৷

★কোন মুসাফির সফরে বের হলে দুইটা জিনিস বেশি ভেবে থাকে৷ একটা হলো নিজের জন্য সফরে কি পরিমাণ সামান নিবে? দ্বীতিয়টা হলো পরিবারের জন্য কি রেখে যাবে৷
তদ্রূপ সূরা নাসর নাযিল হওয়ার পর নবীজি (সাঃ) বেশিদিন জীবিত ছিলেন না৷ তিনি উম্মতকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন৷ যেহেতু তিনি চলে যাবেন সেহেতু আল্লাহ বলেছেন فسبح بحمد ربك واستغفره অর্থাৎ নিজের জন্য বেশি বেশি তসবিহ পাঠ করো, উম্মতের জন্য এস্তেগফার করো, ক্ষমা চাও৷

হুজুরের এই যৌক্তিক জবাবে উপস্থিত জামিয়ার আসাতিজায়ে কেরাম ও ছাত্ররা বিস্মিত হয়ে পড়ে৷
পরিশেষে মুহাযারায় অংশ গ্রহণ কারী ছাত্রদের জন্য ৫০০ টাকা করে পুরুষ্কার প্রদান করেন।এবং সথে হুজুরের নেক হায়াতের জন্য সকলের কাছে দোয়ার দরখাস্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ দেখতে:
dailybhorerbangla website logo
© All rights reserved © 2020 Dailybhorerbanglanews.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com