সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
হাটহাজারীতে ১১ইউনিয়নে ৬টিতে নৌকার বিজয় হাটহাজারীতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রুবেল নামের এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হাটহাজারীতে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে এক সিএনজি চালকের মৃত্যু হালদা নদী থেকে পাঁচ হাজার মিটার জাল ও বড়শি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন আসছে পারভেজ হুসেন তালুকদারের “চাওয়া না চাওয়া” হাটহাজারীতে মহিলা দাওয়াতে খায়র ও সুন্নি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হাটহাজারীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একশিশুর মৃত্যু আশঙ্কাজনক মা বগুড়ায় স্থানীয় তরুনদের নিয়ে “চিন্তন- সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিসদ “নামে একটি সংগঠন যাত্রা শুরু হাটহাজারীতে ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হাটহাজারীর সাত প্রার্থীর আপিলে এক মনোনয়ন পত্রের বৈধতা

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী নবীন লীগের শ্রদ্ধা

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২২৪ বার পঠিত:

ভোরের বাংলা ডেস্কঃ

আজ ১০ জানুয়ারি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এ উপলক্ষে সকাল ০৯.০০ টায় বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগ সভাপতি ইঞ্জি. শরিফুল ইসলাম শাকিল’র নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে নবীন লীগ। সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জি.শরিফুল ইসলাম শাকিল বলেন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এইদিনে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয় পূর্ণতা পায়।
স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘ অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১০ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় পৌঁছানোর পর লাখ লাখ মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে “স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ ” ঘোষনার পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তাঁকে বন্দী করে রাখা হয় পাকিস্তানের কারাগারে।
বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধু’র মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক চাপে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
জাতির পিতাকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান থেকে লন্ডনের একটি বিমানে উঠিয়ে দেন । লন্ডনে পৌঁছে বঙ্গবন্ধু বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এ্যাওয়ার্ড হিথ এর সংগে বৈঠক করেন । লন্ডন হতে একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু দিল্লি পৌছেন এবং ১০ জানুয়ারি সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি , প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য গন এবং তিন বাহিনীর প্রধান গন বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানান।
১০ই জানুয়ারি দুপুরে ভারতের বিশেষ একটি বিমানে বঙ্গবন্ধু দিল্লি হতে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য রওয়ানা করেন এবং ৩:৩০ টার সময় ঢাকায় ( তেজগাঁও বিমানবন্দর ) পৌছেন । সেদিন সারা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসেন বাঙালীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুকে এক নজর দেখার জন্য। স্বাধীন দেশে ফিরে বাঙালির ভালবাসায় সিক্ত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিমানবন্দর হতে বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হন ।
সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স) প্রায় দশ লক্ষ মানুষের সমাবেশে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন,”যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি,যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি,আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি ফিরে যেতে পারবো কিনা।আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইদের কাছে , মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে।বাংলা আমার স্বাধীন , বাংলাদেশ আজ স্বাধীন “।
তিনি বলেছিলেন, বাঙালি আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে সেই বাঙালির জন্য আমি রক্ত দিতেও প্রস্তুত। এর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ৭৫’র ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পরাজিত শত্রু ও দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ঘাতকের নির্মম বুলেটে স্বপরিবারে জীবন দেন তিনি।
যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে জাতির পিতা পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেন, দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আজ স্বাধীন বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে অর্থনৈতিক সর্বসূচকে এগিয়ে। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান এই পাঁচটি সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার আজ মানুষের দোরগোড়ায়।
জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ বিশ্ব মানচিত্রে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আত্মমর্যাদাশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক আমাদের অঙ্গিকার। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগর উত্তর দক্ষিণ নবীন লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ দেখতে:
dailybhorerbangla website logo
© All rights reserved © 2020 Dailybhorerbanglanews.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com