শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

হাটহাজারীতে নিজ বাসার ছাদে ব্যবসায়ীকে জবাই করে হত্যা

মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১১৫ বার পঠিত:

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিজ বাসার ছাদে মোঃ এরশাদ (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর মিরেরখীল খন্দকারপাড়া এলাকার নুরজাহান ভিলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত এরশাদ হাটহাজারী উপজে ইউনিয়নের পেশকারহাট এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের পুত্র বলে জানাগেছে।

সরেজমিনে নিহতের ভাগিনা মোঃ শিফায়াতুল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ঘটনার দিন রাতের খাবার শেষ করে নিহতের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বসে দুধ ও ফলমূল খাচ্ছিলেন। হঠাৎ ছাদে মানুষ হাঁটার শব্দ পেয়ে ছাদে উঠেন নিহত এরশাদ। এর ১০মিনিট পর নিহতের ছোট ভাই মঞ্জুর মোরশেদ ছাদে উঠে দেখেন কে বা কারা এরশাদকে জবাই করে ছাদে ফেলে রেখে চলে গেছেন। তার চিৎকার শুনে সবাই উঠে দেখেন জবাই করা রক্তাক্ত লাশ ছাদে পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যান।

তবে নিহতের সাথে ছোট ভাই মঞ্জুর মোরশেদের কোন দ্বন্দ আছে কিনা জানতে চাইলে বাড়ি নির্মাণ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ চলে আসছিল। বাড়ি নির্মাণে মঞ্জুর চেয়ে এরশাদ টাকা কম দিয়েছে তাই মঞ্জু তার বড় ভাইয়ের সাথে ক্ষোভ করে। ঘটনার তিনদিন আগে শুক্রবার মঞ্জু ওমান থেকে দেশে আসে। ঘটনার দিন মাগরিবের পর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তার দুই ভাই এক সাথে ছিল এবং বাড়ি ফেরে একসাথে খাবার খেয়েছিলেন।

নিহতের শালা ইলিয়াছ বলেন, রোববার গভীররাত্রি হত্যার উদ্দেশ্যে কে বা কারা এরশাদের রুমে দরজার নিচ দিয়ে তৈলাক্ত পদার্থ জাতীয় কিছু ডেলে দেয়। পরে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম টের পেয়ে চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায়। গতকাল রাতে আমি ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ চেঁচামেচি শুনে ছাদে উঠি, তারপর দেখলাম আমার আপু অজ্ঞান হয়ে রক্তাক্ত দুলাভাইয়ের পাশে পড়ে আছেন।

এদিকে মসজিদের মাইকে ডাকাত ডাকাত বলে ঘোষণা শুনে স্থানীয়রা নূর জাহান ভিলাই এসে ছাদে গিয়ে এরশাদের জবাই করা লাশ দেখতে পাই এবং লাশের পাশে নিহতের ছোটভাই মঞ্জু সহ পরিবারের অন্যান্যরা ছিলো, তবে স্থানীয়রা মনে করছেন পারিবারিক কলহে ছোটভাই মঞ্জু আলম এ হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে।

নিহত এরশাদের স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, ৫বছর পূর্বে তার স্বামী এরশাদ এবং তার দেবর মনজুর আলম মিলে ১তলা বিশিষ্ট নুরজাহান ভিলা তৈরি করেন। দেবরের পরিবারও একই ভবনে থাকেন। মনজুর আলমের তুলনায় আমার স্বামী ভবন তৈরির টাকা কিছু কম দেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। গত শুক্রবার মনজুর আলম ওমান থেকে দেশে ফেরত আসেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে এগারটার দিকে তারা দুই ভাই ভবন তৈরির হিসাব ও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন। তখন আমি ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ সাড়ে এগারোটার দিকে ছাদ থেকে ধস্তাধস্তির শব্দ পেলে আমি গিয়ে দেখি আমার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। এসময় ডাকাত এসে আমার স্বামীকে খুন করেছে বলে জানায় দেবর মনজুর আলম। মূলত দ্বন্দ্বেরর জের ধরেই আমার স্বামীকে মনজুর আলম জবাই ও ছুরিকাঘাতে খুন করেছে। আমি আমার স্বামী খুনের বিচার চাই।

হাটহাজারী থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) রাজীব শর্মা বলেন, ডাকাতি হচ্ছে এমনটা দাবী করে জরুরী সেবা ৯৯৯ কল পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। গলাকাটা ব্যবসায়ী এরশাদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের ভাই মনজুর আলমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমরা কাজ করছি। এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ দেখতে:
dailybhorerbangla website logo
© All rights reserved © 2020 Dailybhorerbanglanews.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com